শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল দিয়ে অবাধে চলছে মাছ শিকার। কারেন্ট জালের থেকেও ভয়ংকর এই জাল।স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে অধিক আয়ের উৎস হওয়ায় জেলেদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চায়না দুয়ারী জাল। নদী-খাল-বিলে জাল দিয়ে ফাঁদ পেতে ব্যাপক হারে ছোট মাছ শিকার করছে জেলেরা। শুধু দেশি জাতীয় ছোট মাছ নয় বরং এই জালে আটকা পড়ে সকল প্রজাতির জলজ জীব। এতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের বিলুপ্তির শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতনমহল।
জানা গেছে, লোহার রডের গোলাকার বা চতুর্ভুজ আকৃতির কাঠোমোর চারপাশে ‘চায়না জাল’ দিয়ে ঘিরে এই ফাঁদ তৈরি করা হয়। ক্ষেত্রভেদে ‘চায়না দুয়ারি’ ৫২ হাত থেকে ৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ফাঁদ দিয়ে,তালতলী উপজেলাসহ উপকুলীয় এলাকার নদী খালে মাছ শিকার করছে জেলেরা। বিশেষ করে পায়রা নদীসহ বড়বগীর খাল, তালতলী খেয়াঘাট থেকে শুরু করে মালিপাড়া স্লুইজ, সওদাগর পাড়া,বগীর দোনা খাল,নিদ্রা স্লুইজ,নিশান বাড়িয়া, পচাকোরালিয়া ও ছোট বগীতে এই জাল বেশী হারে পাতা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এই ফাঁদ বসালে নদীর পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়; এর জালের ছিদ্র ছোট হওয়ায় ছোট-বড় কোনো মাছ বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান শুরু করলেই খবর পেয়ে জাল তুলে ফেলে ওই সকল জেলেরা। দাম কম হওয়ায় অনেকে নতুন জাল কিনে একই কাজ করেন।
ছোট বগী বাজারে, তালতলী বন্দরে ও বরগুনা জেলা শহরে অসাধু ব্যাবসায়ীরা এই জাল বিক্রি করে থাকেন।
বঙ্গোপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা এ পানিতে রয়েছে মাছের ডিম ও পোনা। ক্ষুদ্রাকৃতির কোনো মাছের পক্ষেও সম্ভব নয় এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার। অবৈধ চায়না দুয়ারি জালে রেনু পোনাও রেহাই পাচ্ছে না।
তালতলী সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র রায় বলেন, জালের গিঁটের দৈর্ঘের কারনে আইন মোতাবেক এই জালটি আমাদের দেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ছোট ছোট মাছগুলো টিকিয়ে রাখা জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া বড় মাছের পোনা যদি ধরে ফেলা হয়, তাহলে মা মাছের সংকট তৈরি হবে। তখন মাছের উৎপাদনও হ্রাস পেতে শুরু করবে।’ এই জাল শুধু মৎস্য ভান্ডার ধ্বংস করছে না, প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় এটা দীর্ঘদিন নষ্ট হয় না। এটা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। তাই এই জাল উৎপাদন বিপণনের সাথে যারাই জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা দরকার ।
এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বলেন, চায়না দুয়ারী চাল বন্ধে আমাদের প্রচার প্রচারণা চলছে। অবৈধ এ জাল যাতে জেলেরা ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন সময় আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আসছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুম্পা বলেন চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপারে প্রশাসর কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোন ভাবেই এ জাল জেলেদের ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। আইন অমান্য করে যেসব জেলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply